নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর চলমান সহিংসতা বন্ধে দেশটির সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সপ্তাহ ধরে এমন অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়দিনের আগে নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সন্ত্রাসীরা মূলত নির্দোষ খ্রিষ্টানদের হত্যা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব হামলা চালানো হয়েছে এবং দেশটির সরকারের অনুমোদন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, “আরও অভিযান আসছে।” নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গোয়েন্দা তথ্য ও কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ তুগার বলেন, হামলা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সোকোটো রাজ্যের বিরুদ্ধে ‘চলমান যৌথ অভিযানের অংশ’ হিসেবে চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি সমর্থকরা বহু বছর ধরে দাবি করে আসছে, নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টানদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ নাইজেরিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পক্ষে কথা বলেন। ট্রাম্প এবার ইউএস ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাক্টের আওতায় নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তবে নাইজেরিয়ার সরকার মনে করায়, দেশের সমস্যা শুধুমাত্র খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতন নয়; অন্যান্য ধর্মের মানুষও চরমপন্থী গোষ্ঠীর হামলার শিকার হচ্ছে। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং মুসলিম ও খ্রিষ্টান জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় সমান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ধর্মীয় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য প্রভাবও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যাযাবর পশুপালক ও কৃষক সম্প্রদায়ের সংঘাত, অর্থনৈতিক কারণে পাদরি অপহরণ ইত্যাদি ঘটনার পেছনে ধর্মীয় ভিন্নতা ছাড়াও সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে।
গত মাসে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু জানিয়েছেন, দেশটিকে ধর্মীয় সহনশীলতাহীন হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তিনি বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহনশীলতা আমাদের সামষ্টিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি এবং তা সব সময় অটুট থাকবে… নাইজেরিয়া এমন একটি দেশ, যেখানে সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মের নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২০০৯ সাল থেকে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী সক্রিয়। বড়দিনের আগে বোর্নো রাজ্যের একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারী অস্ত্রধারী কিছু অপরাধী গ্যাং খ্রিষ্টান ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করছে।
